মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রাকৃতিক সম্পদ

প্রাচীন নিদর্শনাদি ও প্রত্নসম্পদ চার গম্বুজবিশিষ্ট তারাগঞ্জ মসজিদ (মোগল আমলে নির্মিত), তিন গম্বুজবিশিষ্ট ঘনিরামপুর মসজিদ (মোগল আমলে নির্মিত), মেনানগর বড়জামে মসজিদ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট সয়ার কুঠিপাড়া মসজিদ (১৩৫৮), তিন গম্বুজ সয়ার কাজীপাড়া মসজিদ, বিশ্বম্ভর সাধুর আখড়া, শ্যামগঞ্জের কাচারি, জমিদারবাড়ী ও দেবোত্তর কালীমন্দির, আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভবনামৃত সংঘ ও শ্রী শ্রী রাধা মাধব জিউ মন্দির (ইসকন মন্দির নামে পরিচিত), বামন দিঘি (তারাগঞ্জ উপজেলা থেকে ২ কি:মি: পূর্বে ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে)।

ঐতিহাসিক ঘটনাবলি ফকির সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সময় ১৭৭২ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের শ্যামগঞ্জ নামক স্থানে ইংরেজ বাহিনীর সাথে ফকির সন্ন্যাসীদের তুমুল লড়াই হয়। এ লড়াইয়ে ইংরেজ বাহিনী পরাজিত হয় এবং ইংরেজ সেনাপতি টমাস নিহত হন। ‘রংপুর বিদ্রোহ’ নামে খ্যাত কৃষক প্রজা বিদ্রোহে (১৭৮৩) বদরগঞ্জ ইউনিয়নে একটি বড় ঘাঁটি ছিল। নীল বিদ্রোহ (১৮৫৯) এ অঞ্চলের একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। এছাড়াও তেভাগা আন্দোলন (১৯৪৬-৪৭), হাটতোলা আন্দোলনে (১৯৩৭-৪০) এ অঞ্চলের লোক সক্রিয় অংশ গ্রহন করে। ১৯৭১ সালের ৩ ডিসেম্বর যমুনেশ্বরী নদীর উপর বরাতি ব্রিজে এক গণহত্যা সংঘটিত হয় এবং আগস্ট মাসে পাকসেনারা সয়ার ইউনিয়নের দাড়ার পাড় গ্রামের কয়েকজনকে আটক করে এবং পরে হত্যা করে।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ ৫০, মন্দির ২০, তীর্থস্থান ১। উল্লেখযোগ্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান: মেনানগর মসজিদ, তারাগঞ্জ মসজিদ, কাজীপাড়া মসজিদ, দেওয়ানপাড়া মসজিদ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট ঘনিরামপুর মসজিদ, তিন গম্বুজবিশিষ্ট সয়ার কুঠিপাড়া মসজিদ, দেবোত্তর কালীমন্দির, ইসকন মন্দির।

শিক্ষার হার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  গড় হার ৩৭.০৬%; পুরুষ ৪১.৫৮%, মহিলা ৩২.২৭%। কলেজ ২, কারিগরি ও ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা কলেজ ৩, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ২২, প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭১, কিন্ডার গার্টেন ২, মাদ্রাসা ২৬। উল্লেখযোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: তারাগঞ্জ ও.এ ডিগ্রি কলেজ (১৯৭২), তারাগঞ্জ ও.এ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ (১৯৭৯), তারাগঞ্জ ও.এ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬২), কাজীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৫), কাশিয়াবাড়ী বিএল উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৬৭), কুর্শা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (১৯৯৩), কুর্শা ডাঙ্গা রহমানিয়া মাদ্রাসা (১৯১৬), তারাগঞ্জ ও.এ সিনিয়র মাদ্রাসা (১৯৭৫)।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান লাইব্রেরি ৩, ক্লাব ১৮, সিনেমা হল ১, থিয়েটার গ্রুপ ১, অডিটোরিয়াম ১, খেলার মাঠ ১৫। তারাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ লাইব্রেরী (২০০৬), তারাগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরী (১৯৯৫), তারাগঞ্জ ইস্কন মন্দির পাঠাগার (১৯৯৫) উল্লেখযোগ্য।

জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ৮০.৩৮%, অকৃষি শ্রমিক ২.১১%, শিল্প ০.৩৭%, ব্যবসা ৭.৯৮%, পরিবহণ ও যোগাযোগ ২.১০%, চাকরি ৩.২৮%, নির্মাণ ০.৪৩%, ধর্মীয় সেবা ০.১৬%, রেন্ট অ্যান্ড রেমিটেন্স ০.১২% এবং অন্যান্য ৩.০৭%।

কৃষিভূমির মালিকানা ভূমিমালিক ৫৭.৭৭%, ভূমিহীন ৪২.২৩%। শহরে ৫১.৯৩% এবং গ্রামে ৫৮.৪৮% পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

প্রধান কৃষি ফসল ধান, পাট, আলু, আদা, তামাক, রসুন, পিঁয়াজ, গম, হলুদ।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় ফসলাদি যব, তিল, মিষ্টি আলু, কাউন, সরিষা।

প্রধান ফল-ফলাদি  আম, কাঁঠাল, জাম, কলা, জামরুল, লিচু, পেঁপে।

মৎস্য, হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুর খামার  মৎস্য ১৫০, মুরগি ১৮, ছাগল ৯, দুগ্ধ খামার ৯।

যোগাযোগ বিশেষত্ব পাকারাস্তা ৬০ কিমি (মহাসড়ক ১০ কিমি), কাঁচারাস্তা ৩০৪.২৬ কিমি।

বিলুপ্ত বা বিলুপ্তপ্রায় সনাতন বাহন পাল্কি, গরু ও ঘোড়ার গাড়ি।

শিল্প ও কলকারখানা ধানকল, বরফকল, করাতকল, ম্যাচ ফ্যাক্টরি, রেশম শিল্প, ওয়েল্ডিং কারখানা।

কুটিরশিল্প স্বর্ণশিল্প, লৌহশিল্প, মৃৎশিল্প, বুননশিল্প,বাঁশের কাজ, কাঠের কাজ।

হাটবাজার ও মেলা হাটবাজার ২৩, মেলা ৮। উল্লেখযোগ্য হাটবাজার ও মেলা: তারাগঞ্জ হাট, একরচালি হাট, বুড়ীর হাট, চিকলি হাট, আসামীরহাট হাট, চৌপথীরহাট হাট, জয়বাংলার হাট এবং তারাগঞ্জ মেলা, বরাতি মেলা, বৈশাখী মেলা, বারুনীর মেলা, চড়কের মেলা।

প্রধান রপ্তানিদ্রব্য  আদা, তামাক, ধান, চাল, পাট, রসুন, পিঁয়াজ, আলু, হলুদ।

বিদ্যুৎ ব্যবহার উপজেলার সবক’টি ইউনিয়ন পল্লিবিদ্যুতায়ন কর্মসূচির আওতাধীন। তবে ১০.৯৩% (শহরে ১৮.৫৪% এবং গ্রামে ৯.৯৯%) পরিবারের বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।

পানীয়জলের উৎস নলকূপ ৯১.৭৫%, ট্যাপ ০.১৬%, পুকুর ০.১২% এবং অন্যান্য ৭.৯৭%।

স্যানিটেশন ব্যবস্থা এ উপজেলার ৫.৪৫% (শহরে ১৪.৪৮% এবং গ্রামে ৪.৩৪%) পরিবার স্বাস্থ্যকর এবং ৬৬.৫২% (শহরে ৬৭.০৩% এবং গ্রামে ৬২.১৪%) পরিবার অস্বাস্থ্যকর ল্যাট্রিন ব্যবহার করে। ২৮.০৫% পরিবারের কোনো ল্যাট্রিন সুবিধা নেই।

খনিজ সম্পদ কয়লা মাটি বা কালোমাটি ও কাঁচবালি (সিলিকা স্যান্ড)।

স্বাস্থ্যকেন্দ্র উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১, কমিউনিটি হাসপাতাল ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র ১২, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ১।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ১৮৯৭ সালে ভারতের উত্তর-পূর্বাংশে ভয়াবহ ভূমিকম্প ও উপর্যুপরি বন্যায় এ অঞ্চলের নদীগুলোর গতি পরিবর্তন ও ভূমিরূপের ব্যাপক পরিবর্তন হয়। তেমনি এক বড় ভূমিকম্পে তারাগঞ্জ বাজারের পশ্চিম পাশে নেংটি ছিড়া নামে একটি  নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। একইভাবে তারাগঞ্জ উপজেলার পূর্বপ্রান্ত ঘেষে দক্ষিণে বয়ে চলা চিকলি ও যমুনেশ্বরী নদী একসময় খরস্রোতা থাকলেও পরবর্তীতে প্রায় মরা নদীতে পরিণত হয়েছে।

এনজিও ব্র্যাক, আশা, ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ। [আব্দুল মালেক]

ছবি


সংযুক্তি


সংযুক্তি (একাধিক)



Share with :
Facebook Twitter